ফ্রুটিকা সম্পর্কিত

ফ্রুটিকা

বাংলাদেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে আকিজ গ্রুপ। আজ থেকে ৬০ বছরেরও বেশি সময় আগে এটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিলো। আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ আকিজ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যা ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে। এর ফ্যাক্টরি ‘আকিজ ফুড পার্ক’ ঢাকার ধামরাইয়ে অবস্থিত। পরিচ্ছন্ন, সুসজ্জিত এবং দেশের একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্যাক্টরি হিসেবে পরিচিত আকিজ ফুড পার্কে ব্যবহৃত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। ফ্যাক্টরির মোট আয়তন ৪৬ একরেরও বেশি। আকিজ ফুড পার্কে দুই হাজারের অধিক মেধাবী, চৌকস কর্মী তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরলসভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

ব্র্যান্ডের গল্প

আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের (এএফবিএল) অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড ফ্রুটিকা। ২০০৭ সালে এই ব্র্যান্ড যাত্রা শুরু করে। প্রশ্ন আসতে পারে, কেনো এএফবিএল বাজারে ‘ফ্রুটিকা’ ব্র্যান্ড নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়? এএফবিএল যখন ‘ফ্রুটিকা’ নিয়ে বাজারে আসে তখন বাজারে ভালো মানের জুস ব্র্যান্ডের অভাব ছিলো। বাংলাদেশি ভোক্তারা ওই সময় মানসম্পন্ন জুস বলতে একমাত্র বিদেশি জুস ব্র্যান্ডকেই বোঝাতো। আর তাই আরো ভালো মানের জুস আরো সুবিধাজনক উপায়ে সরবরাহের জন্য এএফবিএল ‘ফ্রুটিকা’ ব্র্যান্ড নিয়ে আসে।

ভোক্তার মনস্তত্ত্ব যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড গড়ে তোলা

ফ্রুটিকা ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরুর আগে ভোক্তার চাহিদা, মনস্তত্ত্ব (কনজ্যুমার ইনসাইট) ইত্যাদি বোঝার জন্য এএফবিএল একটি গভীর কনজ্যুমার রিসার্চ পরিচালনা করে। আর এই ব্যাপক বিস্তৃত গবেষণার মধ্য দিয়েজানা যায় বাজারে জুসের একটি মাত্র ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, যা হচ্ছে আমের জুস। এছাড়া অধিকাংশ ম্যাংগো ড্রিংক গ্লাস বোতল বা টেট্রা প্যাকে পাওয়া যায়, যা সহজে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী কিংবা সুবিধাজনকও নয়। সেই সাথে পণ্যের মান সম্পর্কেও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। ভোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং আরো ভালো মানের জুস সরবরাহের উদ্দেশ্যে এএফবিএল দেশে প্রথমবারের মতো নিয়ে আসে অ্যাসেপটিকালি প্রসেস্ড এবং ৫টি নতুন ভ্যারিয়েন্টে পেট (পিইটি) বোতলে বাজারজাত করা জুস ব্র্যান্ড ‘ফ্রুটিকা’।

কোর ব্র্যান্ড এসেন্স

এএফবিএল মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে বিশ্বাসী। ফ্রুটিকা বিশ্বস্ততার প্রতীক, যা সর্বোচ্চ গুণমানকে প্রতিফলিত করে। অ্যাসেপটিকালি প্রসেস্ড এবং ফিল্ড জুস ব্র্যান্ড ‘ফ্রুটিকা’ যা বাজারে সর্বপ্রথম পেট বোতলে বাজারজাত করার পাশাপাশি সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করেছে পণ্যের সেরা মান। প্রতিটি কমিউনিকেশনে ফ্রুটিকা বিশুদ্ধতার সমার্থক হওয়ার বার্তাই প্রচার করেছে। জার্মান অ্যাসেপটিকাল প্রসেসিং টেকনোলজি ব্যবহার এবং ভোক্তার কাছে সেরা মানের পণ্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশে ফ্রুটিকা অগ্রপথিক হিসেবে স্বীকৃত।

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (কম্পিটিটিভ সিচুয়েশন)

ফ্রুটিকা প্রথমে ম্যাংগো জুস নিয়ে আসে। তারপর আস্তে আস্তে ভোক্তার প্রত্যাশা মেটানোর জন্য অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট যেমন ফ্রুটিকা রেড গ্রেপ ও ফ্রুটিকা গ্রিন ম্যাংগো চালু করে। ফ্রুটিকা সবসময়ই ভোক্তার চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সেই বিবেচনায় ফ্রুটিকা পরবর্তীতে আলাদা সাইজে টেট্রা প্যাকও বাজারে নিয়ে আসে। সেগুলো ছিলো লিটিল ফ্রুটিকা এবং ফ্রুটিকা প্রিজমা প্যাক।

ব্র্যান্ড পজিশনিং ও কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি

ফ্রুটিকা শুরু থেকেই পণ্যের গুণমান দর্শক/ভোক্তার কাছে হাস্যরসাত্মক উপায়ে কমিউনিকেট করতে চেয়েছে, যা সহজেই নির্দিষ্ট দর্শকশ্রেণির কাছে ঠিকমতো পৌঁছাতে সমর্থ হয়। এ যাবৎ ‘ফ্রুটিকা’ ৩৬০ ডিগ্রি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রমোশন চালিয়েছে। প্রতি বছর ব্র্যান্ডটি তার টার্গেট অডিয়েন্সের জন্য বিভিন্ন আউটডোর ক্যাম্পেইন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। যার একটি হচ্ছে ‘ফ্রুটিকা আম রাজ্য ট্যুর’। প্রধানত শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়। যার অংশ হিসেবে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাল্প প্রসেসিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। ফ্রুটিকা’র বিশ্বাস, তারাই ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য শ্রেণিগোষ্ঠী হিসেবে ভবিষ্যতে তারা এই সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি বছরজুড়েই ফ্রুটিকা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সিএসআর (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) অ্যাকটিভিটি পরিচালনা করে। তারই অংশ হিসেবে ফ্রুটিকা দেশের বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুলে বিভিন্ন শিক্ষাপণ্য সরবরাহ করে। এছাড়া তাদের জন্য বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডের আয়োজন করে থাকে।

ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র্যাটেজি

ফ্রুটিকা তার নির্দিষ্ট ভোক্তাশ্রেণির কাছে পৌঁছাতে বেশ কয়েকটি মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। প্রথমে ফ্যাক্টরি থেকে এএফবিএল ডেপো, এরপর ডিস্ট্রিবিউটর হাউজ, তারপর রিটেইলার এবং সবশেষে ব্যবহারকারী ভোক্তা। সারাদেশে ১৯০০’রও বেশি ডিস্ট্রিবিউটর নিয়ে এএফবিএল-এর রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল নেটওয়ার্ক। ফ্রুটিকা’কে সর্বশেষ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য পুরো দেশকে বেশ কয়েকটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের মধ্যে আবার একাধিক অঞ্চল রয়েছে। প্রতিটি এলাকা আবার ছোটো ছোটো এলাকায় বিভক্ত। এভাবেই ফ্রুটিকা সারাদেশে ভোক্তাদের কাছে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে।

এসকেইউ সংখ্যা

১. ফ্রুটিকা ম্যাংগো পেট ২৫০ মিলি
২. ফ্রুটিকা ম্যাংগো পেট ৫০০ মিলি
৩. ফ্রুটিকা ম্যাংগো পেট ১০০০ মিলি
৪. ফ্রুটিকা রেড গ্রেপ পেট ২৫০ মিলি
৫. ফ্রুটিকা গ্রিন ম্যাংগো ২৫০ মিলি
৬. ফ্রুটিকা প্রিজমা টেট্রা প্যাক ২৫০ মিলি
৭. ফ্রুটিকা ম্যাংগো এস আই জি প্যাক ২০০ মিলি
৮. লিটিল ফ্রুটিকা টেট্রা প্যাক ১২৫ মিলি